মোহাম্মদ শামির ভবিষ্যৎ নিয়ে অজিত আগরকরের বড় ঘোষণা, টেস্ট ও ওডিআই দল থেকে বাদ অভিজ্ঞ পেসার
আফগানিস্তান সিরিজের দল ঘোষণা এবং মোহাম্মদ শামির অনুপস্থিতি
মঙ্গলবার বিকেলে ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তদের জন্য বড় খবর নিয়ে হাজির হলেন বিসিসিআই (BCCI) এর প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর এবং বোর্ড সচিব দেবাজিৎ সাইকিয়া। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আসন্ন টেস্ট এবং ওডিআই সিরিজের জন্য টিম ইন্ডিয়ার স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় চমক ছিল অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ শামির নাম না থাকা। ভারতের পেস বোলিং আক্রমণের অন্যতম স্তম্ভ শামিকে কেন কোনো দলেই রাখা হলো না, তা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে।
ফিটনেস নিয়ে অজিত আগরকরের কড়া বার্তা
দল নির্বাচনের পর সংবাদ সম্মেলনে অজিত আগরকর স্পষ্ট করে দিয়েছেন কেন শামিকে দলে রাখা সম্ভব হয়নি। আগরকরের মতে, শামি বর্তমানে টেস্ট এবং ৫০ ওভারের ওডিআই ফরম্যাটে খেলার জন্য প্রয়োজনীয় ফিটনেস পর্যায়ে নেই। প্রধান নির্বাচকের এই মন্তব্যকে অনেকেই শামির দীর্ঘ ফরম্যাটের ক্যারিয়ারের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন।
আগরকর বলেন, “আমাদের জানানো হয়েছে যে, এই মুহূর্তে তিনি শুধুমাত্র টি-টোয়েন্টি (T20) ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত। তাই মোহাম্মদ শামিকে নিয়ে টেস্ট বা ওডিআই ফরম্যাটে কোনো আলোচনাই করা হয়নি।” এই বয়ান থেকে পরিষ্কার যে, বিসিসিআই এখন শামিকে শুধুমাত্র সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে ব্যবহারের কথা ভাবছে।
কেন শুধু টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট?
একজন ফাস্ট বোলারের জন্য টেস্ট ক্রিকেট খেলা মানে দীর্ঘ সময় ধরে বোলিং স্পেল চালিয়ে যাওয়া এবং মাঠে দীর্ঘ সময় অবস্থান করা। মোহাম্মদ শামির সাম্প্রতিক চোটের ইতিহাস এবং বয়স—এই দুটি বিষয় নির্বাচকদের ভাবিয়ে তুলছে। আগরকরের মন্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, শামির শরীর এখন আর দীর্ঘ স্পেলে বোলিং করার ধকল সহ্য করতে পারছে না। ওডিআই ফরম্যাটেও ১০ ওভার বোলিং এবং ৫০ ওভার ফিল্ডিং করার যে শারীরিক সক্ষমতা প্রয়োজন, তাতেও ঘাটতি দেখছেন নির্বাচকরা।
- ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট: সিনিয়র ক্রিকেটারদের চোট থেকে দূরে রাখতে বিসিসিআই এখন ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের ওপর জোর দিচ্ছে।
- টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট: শামির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তাকে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় রাখা হতে পারে।
- নতুনদের সুযোগ: দীর্ঘ ফরম্যাটে আকাশ দীপ বা মুকেশ কুমারের মতো তরুণদের আরও বেশি পরখ করতে চাইছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
শামির ক্যারিয়ার কি সংকটে?
মোহাম্মদ শামির মতো একজন বোলার, যিনি একার হাতে ভারতকে অনেক ম্যাচ জিতিয়েছেন, তার ফিটনেস নিয়ে এমন মন্তব্য ক্রিকেট মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। টেস্ট ক্রিকেটে শামির রেকর্ড ঈর্ষণীয় এবং ওডিআই বিশ্বকাপেও তিনি ছিলেন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। কিন্তু পেশাদার ক্রিকেটে ফিটনেসই শেষ কথা। যদি তিনি ওডিআই এবং টেস্টের জন্য ফিট না হতে পারেন, তবে কি আমরা শামির সাদা পোশাকের ইতি দেখতে চলেছি? যদিও বিসিসিআই বা আগরকর সরাসরি ‘অবসর’ শব্দটি উচ্চারণ করেননি, তবে তাদের সিদ্ধান্ত সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে।
আফগানিস্তান সিরিজের গুরুত্ব
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে এই সিরিজে ভারতের লক্ষ্য থাকবে তরুণদের ঝালিয়ে নেওয়া। তবে অভিজ্ঞতার অভাব টেস্ট বা ওডিআই ফরম্যাটে কতটা ভোগাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। জাসপ্রিত বুমরাহ এবং মোহাম্মদ সিরাজের কাঁধে এখন বড় দায়িত্ব বর্তাবে যদি শামি দীর্ঘ ফরম্যাট থেকে দূরে থাকেন।
উপসংহার
মোহাম্মদ শামির ফিটনেস নিয়ে আগরকরের এই বয়ানটি অত্যন্ত রূঢ় হলেও বাস্তবসম্মত। আধুনিক ক্রিকেটে তিন ফরম্যাটেই সমান পারফরম্যান্স করা যে কোনো ক্রিকেটারের জন্যই কঠিন। বিশেষ করে একজন পেস বোলারের জন্য শরীরকে সচল রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এখন দেখার বিষয়, শামি কি কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আবার টেস্ট ও ওডিআই ফিটনেস ফিরে পান, নাকি আগরকরের এই ভবিষ্যৎবাণীই তার ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায় হয়ে দাঁড়ায়।
ভারতীয় ক্রিকেট প্রেমীরা আশা করবেন, শামি দ্রুত তার পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পাবেন এবং আবারও লাল বলে ভারতের হয়ে মাঠ কাঁপাবেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, শামিকে হয়তো এখন থেকে শুধু ২০ ওভারের ম্যাচেই বেশি দেখা যাবে।
