আর অশ্বিনের সমর্থন: ইশান কিশানের ‘হুইসেল পোডু’ উদযাপন নিয়ে মুখ খুললেন সিএসকে কিংবদন্তি
চিপকে ইশান কিশানের আক্রমণাত্মক উদযাপন এবং উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া
আইপিএল মানেই টানটান উত্তেজনা, আর সেই উত্তেজনার পারদ যখন চিপকের মতো ঐতিহাসিক মাঠে চড়ে, তখন তা এক ভিন্ন মাত্রা পায়। সম্প্রতি চেন্নাই সুপার কিংস (CSK) এবং সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের (SRH) মধ্যকার ম্যাচে তেমনই এক মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। ম্যাচ শেষে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের তারকা ব্যাটার ইশান কিশানের ‘হুইসেল পোডু’ উদযাপন নিয়ে এখন তোলপাড় ক্রিকেট মহল। সিএসকে-র ঘরের মাঠে তাদেরই বিখ্যাত স্লোগানকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে অনুকরণ করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন চেন্নাই সমর্থকরা। তবে এই বিতর্কিত ইস্যুতে ইশানের পাশে দাঁড়িয়েছেন সিএসকে-র অন্যতম কিংবদন্তি এবং অভিজ্ঞ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট এবং ইশানের বিধ্বংসী ইনিংস
প্লে-অফের দৌড়ে টিকে থাকার জন্য চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে এই ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয় পেলে তাদের শেষ চারে যাওয়ার পথ অনেকটাই মসৃণ হতো। কিন্তু নিজেদের ঘরের মাঠে মৌসুমের শেষ ম্যাচে বিশেষ কিছু করে দেখাতে ব্যর্থ হয় ঋতুরাজ গায়কোয়াড়ের দল। প্রথমে ব্যাট করে হায়দ্রাবাদ একটি চ্যালেঞ্জিং স্কোর খাড়া করে, যেখানে ব্যাট হাতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন ইশান কিশান।
ইশান কিশান এদিন চিপকের কঠিন উইকেটে অনবদ্য ব্যাটিং প্রদর্শন করেন। তিনি মাত্র কয়েক ওভারের ব্যবধানেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এবং ব্যক্তিগত ৭০ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। তার এই ইনিংসটি কেবল হায়দ্রাবাদকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়নি, বরং তাদের প্লে-অফ নিশ্চিত করতেও বড় ভূমিকা রেখেছে। জয়ের পর ইশান কিশানের উদযাপন ছিল দেখার মতো। তিনি পাম্প-আপ হয়ে চিপকের দর্শকদের উদ্দেশ্যে সিএসকে-র সিগনেচার ‘হুইসেল পোডু’ ভঙ্গিটি প্রদর্শন করেন, যা গ্যালারিতে থাকা হাজার হাজার হলুদ জার্সিধারী সমর্থকদের হৃদয় ভেঙে দেয়।
ভক্তদের ক্ষোভ এবং অশ্বিনের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান
চেন্নাই সুপার কিংসের ভক্তকুল আইপিএল-এর অন্যতম বৃহৎ এবং আবেগপ্রবণ সমর্থক গোষ্ঠী। কিশানের এই আচরণকে তারা সিএসকে সংস্কৃতির প্রতি অসম্মান হিসেবে দেখছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় কিশানের এই উদযাপনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই তাকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করে। ঠিক এই সময়েই পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন, যিনি চিপকের মাঠ এবং এখানকার দর্শকদের পালস খুব ভালো করেই বোঝেন।
অশ্বিন তার নিজস্ব স্টাইলে বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, “ম্যাচ শেষে ইশান কিশান যেভাবে উদযাপন করেছেন, তা সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ শোরগোল সৃষ্টি করেছে। কিন্তু আমার মনে হয় এটাকে সহজভাবে ছেড়ে দেওয়া উচিত। তারা খেলোয়াড় এবং খেলার মাঠে এমন আবেগপ্রবণ মুহূর্ত আসতেই পারে। ভক্তদের উচিত এই বিষয়গুলোকে ব্যক্তিগতভাবে না নিয়ে বরং উপভোগ করা।”
অশ্বিন আরও যোগ করেন, একজন ভারতীয় ক্রিকেটার আপনার সামনে উদযাপন করেছেন বলে কেন ইগো ধরে রাখতে হবে? বিনোদন না থাকলে খেলার রোমাঞ্চ কোথায়? তার মতে, মাঠে যা ঘটে তা মাঠেই রাখা উচিত এবং ভক্তদের উচিত সেই মুহূর্তের উত্তেজনাকে সম্মান করা।
সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন
ইশান কিশান এবং তার দলের এই উদযাপনের পেছনে একটি বড় কারণ ছিল তাদের আগের ম্যাচের পারফরম্যান্স। গুজরাট টাইটানসের (GT) বিরুদ্ধে আগের ম্যাচে হায়দ্রাবাদের ব্যাটিং লাইনআপ মাত্র ৮৬ রানে ধসে পড়েছিল। সেই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠে সিএসকে-র মতো শক্তিশালী দলকে তাদেরই মাঠে হারানো কোনো সাধারণ কৃতিত্ব নয়।
অশ্বিন এই বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, “তারা জিটি-র বিরুদ্ধে একটি বাজে ম্যাচ খেলেছিল, কিন্তু তারপর তারা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং এই ম্যাচটি জিতেছে তা প্রশংসনীয়। সিএসকে-কে তাদের ঘরের মাঠে হারানো মোটেও সহজ কাজ নয়। একজন খেলোয়াড় আপনার মাঠে এসে বলছেন যে তিনি আপনাকে হারিয়েছেন, এটা মেনে নেওয়াই খেলাধুলা। এর উত্তর দিতে হবে পরের বছর যখন সিএসকে হায়দ্রাবাদের মাঠে খেলতে যাবে তখন পারফরম্যান্স দিয়ে।”
https://x.com/ashwinravi99/status/1784918239234854912
সিএসকে-র প্লে-অফ সমীকরণ
এই পরাজয়ের ফলে চেন্নাই সুপার কিংস পয়েন্ট তালিকায় বর্তমানে ষষ্ঠ স্থানে নেমে গেছে। তাদের প্লে-অফে যাওয়ার স্বপ্ন এখনও টিকে থাকলেও, সমীকরণটি এখন বেশ কঠিন। তাদের পরবর্তী ম্যাচে গুজরাট টাইটানসের মুখোমুখি হতে হবে এবং সেখানে জয় ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। সিএসকে ভক্তরা আশা করছেন যে, দল এই ধাক্কা সামলে উঠে আবার জয়ের ধারায় ফিরবে।
উপসংহার
আইপিএল মানেই মাঠের ভেতরে এবং বাইরের নানা নাটকীয়তা। ইশান কিশানের উদযাপন হয়তো সিএসকে সমর্থকদের ক্ষুব্ধ করেছে, কিন্তু রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের মন্তব্য আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, খেলাটি শেষ পর্যন্ত উপভোগ করার জন্যই। মাঠের স্লেজিং বা উদযাপন যদি খেলার স্পিরিটকে নষ্ট না করে, তবে তা ক্রিকেটের বিনোদনকেই আরও বাড়িয়ে তোলে। এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী ম্যাচে সিএসকে এই সমালোচনার জবাব তাদের পারফরম্যান্স দিয়ে দিতে পারে কি না।
