Cricket News

বাবর আজমের অবিশ্বাস্য অভিব্যক্তি: কোহলির নকল নাকি ম্যাচের চাপ?

Ayesha Siddiqui · · 1 min read

ক্রিকেট মাঠে খেলোয়াড়দের আবেগঘন মুহূর্তগুলো প্রায়শই ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেয়। এমন একটি মুহূর্ত সম্প্রতি সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের দ্বিতীয় টেস্টে দেখা গেছে, যেখানে পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজমের আউট হওয়ার পর তার প্রতিক্রিয়া দ্রুত ভাইরাল হয়ে উঠেছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা তার এই বিস্ময়কর অভিব্যক্তিকে ভারতীয় তারকা বিরাট কোহলির অতীতে দেওয়া কিছু স্মরণীয় প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে তুলনা করছেন।

সিলেট টেস্টের টানটান উত্তেজনা

বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্টটি শুরু থেকেই ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। বিশেষ করে সিলেটের এই টেস্টে বাংলাদেশ শুরু থেকেই চালকের আসনে ছিল। পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছিল স্বাগতিকরা, যা তাদের দ্বিতীয় ইনিংসের জন্য এক পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। ম্যাচের চতুর্থ দিনে পাকিস্তান যখন গভীর সংকটে, তখন তাদের জয়ের জন্য আরও ২৭৫ রান প্রয়োজন ছিল, হাতে ছিল মাত্র ছয় উইকেট। এমন এক চাপের মুহূর্তে মাঠে নেমেছিলেন বাবর আজম, এবং তার ৪৭ রানের লড়াকু ইনিংসটি ৫২ বলে সাজানো ছিল চারটি বাউন্ডারি ও একটি ছক্কায়, যা দলের জন্য কিছুটা হলেও আশার আলো দেখিয়েছিল।

বাবর আজমের সেই ভাইরাল আউট

ঠিক তখনই ঘটে যায় সেই মুহূর্তটি যা সবাইকে স্তম্ভিত করে দেয়। বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম একটি দুর্দান্ত ডেলিভারি করেন, যা বাবরের ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে ধরা পড়ে। আর এই আউটের পর বাবরের প্রতিক্রিয়া ছিল অভাবনীয়, যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

তাইজুল ইসলামের বলটি অফ-স্পিন ছিল, যা মিডল স্টাম্পের লাইনে পড়ে তীক্ষ্ণভাবে বাঁক নিয়ে বাবরের ডিফেন্স ভেদ করে যায়। বলটি দেরিতে ফ্লিক করার চেষ্টা করতে গিয়ে বাবরের ব্যাটের খুব পাতলা একটি কানা লাগে। বলটি সরাসরি উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে জমা পড়তেই তাইজুল উল্লাসে ফেটে পড়েন।

বাবর আজম মুহূর্তের জন্য উইকেটের ওপর স্থির হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তার মুখ হাঁ হয়ে গিয়েছিল, চোয়াল সম্পূর্ণ ঝুলে পড়েছিল। তার মুখের অভিব্যক্তি ছিল বিশুদ্ধ, অপ্রকাশিত বিস্ময় এবং অবিশ্বাস। একটি ভালোভাবে সেট হওয়া হাফ সেঞ্চুরির ঠিক আগে এমন একটি আউটের যন্ত্রণা তার মুখে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছিল। এই আউটটি বাবরের জন্য এতটাই অপ্রত্যাশিত ছিল যে তিনি ডিআরএস রিভিউ নেওয়ার কথাও ভাবেননি। তিনি আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে প্যাভিলিয়নের দিকে ফিরে যান, যা তার স্পোর্টসম্যানশিপের পরিচয় দেয়।

দ্বিতীয় টেস্টে বাবর আজমের অবদান

সিলেট টেস্টে পাকিস্তান দলগতভাবে লড়াই করলেও, বাবর আজম উভয় ইনিংসেই তাদের সেরা পারফর্মার ছিলেন। প্রথম ইনিংসে তিনি ৮৪ বলে ১০টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৬৮ রানের একটি ধৈর্যশীল ইনিংস খেলেন। তিনি নাহিন রানার বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা পড়েছিলেন, যা পাকিস্তানের ধুঁকতে থাকা ইনিংসকে কিছুটা স্থিতিশীলতা দিয়েছিল।

দ্বিতীয় ইনিংসেও বাবর দলকে বিপদে দেখে মাঠে নেমেছিলেন এবং আবারও নিজের দায়িত্ব পালন করেন। তার ৫২ বলে ৪৭ রানের ইনিংসটি ছিল আক্রমণাত্মক এবং উদ্দেশ্যপূর্ণ। ৯০.৩৮ স্ট্রাইক রেট তার টিকে থাকার পরিবর্তে ম্যাচ জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে। দুই ইনিংস মিলিয়ে তিনি ১১৫ রান করেছেন, গড় ৫৭.৫০, যা এই টেস্টে পাকিস্তানের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান হিসেবে তাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে, যেখানে তার সতীর্থরা বাংলাদেশের স্পিন-নির্ভর আক্রমণের বিরুদ্ধে অনেকটাই সংগ্রাম করেছেন।

Babar Azam and Virat Kohli reaction [Source: X]

বাবরের অভিব্যক্তি কি কোহলির নকল?

বাবরের এই অমূল্য প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে ক্রিকেট মহলে বিরাট কোহলির বিখ্যাত বিস্ময়কর অভিব্যক্তিগুলির সাথে তুলনা তৈরি করে। সময়ের সাথে সাথে কোহলি তার অনেক ভাইরাল মুহূর্তের মাধ্যমে ক্রিকেট বিশ্বকে মুগ্ধ করেছেন, যেখানে তার মুখভঙ্গি ছিল সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত এবং বিস্ময়ে ভরা। এর মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো:

  • ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দুবাইতে নিউজিল্যান্ডের গ্লেন ফিলিপসের অবিশ্বাস্য এক হাতে ক্যাচ ধরে তাকে আউট করার পর কোহলির স্তম্ভিত হয়ে যাওয়া মুখ। এটি ছিল তার ৩০০তম ওয়ানডে ম্যাচ, এবং সেই ক্যাচটি ছিল এক কথায় অসাধারণ।
  • ২০২৬ সালের মে মাসে আইপিএল ম্যাচে মনীষ পান্ডের নেওয়া আরেকটি অত্যাশ্চর্য এক হাতে ক্যাচ দেখে কোহলির স্পষ্ট হতবাক ও মুগ্ধতা। সেই ক্যাচটিও ছিল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক মুহূর্ত।
  • ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের অবিশ্বাস্য ফিল্ডিং দেখে ডাগআউটে কোহলির সম্পূর্ণ হতবুদ্ধি অভিব্যক্তি। এই ধরনের ফিল্ডিং ক্রিকেটে খুব কমই দেখা যায়।

সিলেটে বাবর আজমের প্রতিক্রিয়াতেও সেই একই কাঁচা আবেগ এবং অপ্রস্তুত বিস্ময় ফুটে উঠেছিল। এটি কেবল একটি আউটের প্রতিক্রিয়া ছিল না, বরং একজন খেলোয়াড়ের উচ্চ চাপের মুহূর্তে অপ্রত্যাশিত ঘটনার প্রতি সহজাত প্রতিক্রিয়া ছিল, যা কোহলির সেইসব বিখ্যাত মুহূর্তগুলোর মতোই দর্শকদের মনে দাগ কেটেছে।

টেস্টে বাংলাদেশের দাপট

এই টেস্ট ম্যাচটিতে বাংলাদেশ প্রথম সেশন থেকেই তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং খেলার চার দিন ধরে পাকিস্তানকে লাগাতার চাপে রেখেছে। তাদের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭৮ রান তোলে, যেখানে লিটন দাস ১৫৯ বলে দুর্দান্ত ১২৬ রান করে দলের দাপটের সুর বেঁধে দেন।

জবাবে পাকিস্তান ২২২ রানে অলআউট হয়, যেখানে বাবরের ৬৮ রান ছিল একমাত্র ব্যতিক্রমী ইনিংস। তাইজুল ইসলাম তিনটি উইকেট এবং নাহিন রানা তিনটি উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দেন।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস ছিল যেখানে তারা সত্যিই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। মুশফিকুর রহিম ২৩৩ বলে অসাধারণ ১৩৭ রান করেন, আর লিটন দাস যোগ করেন আরও ৬৯ রান। মোট ৩৯০ রান করে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের প্রায় অসম্ভব লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয়।

পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে রান তাড়া করাটা প্রত্যাশিতভাবেই কঠিন ছিল। বর্তমানে তারা ১৬২/৪, শান মাসুদ ৭১ রানে অপরাজিত থেকে এক মরিয়া ড্রেসিংরুমের আশা বহন করছেন। বাকি ম্যাচটিতে কী হয়, তা দেখতে মুখিয়ে আছে ক্রিকেট বিশ্ব। বাবরের এই মুহূর্তটি ম্যাচের ফলাফল যাই হোক না কেন, ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় একটি ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।

Avatar photo
Ayesha Siddiqui

Ayesha Siddiqui focuses on player reactions, press conference highlights, and exclusive cricket interviews.