আইপিএল ২০২৪: হারলেও দলের পারফরম্যান্সে গর্বিত রুতুরাজ গায়কোয়াড়
চেন্নাইয়ের স্বপ্নভঙ্গ: হায়দ্রাবাদের কাছে হার সিএসকের
আইপিএল ২০২৪-এর ৬৩তম ম্যাচে এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল চেন্নাই সুপার কিংস (CSK) এবং সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ (SRH)। দুই দলের জন্যই এটি ছিল একটি ‘মাস্ট উইন’ বা বাঁচা-মরার লড়াই। শেষ পর্যন্ত অরেঞ্জ আর্মি বা সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ৫ উইকেটে জয় তুলে নিয়ে প্লে-অফে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে। এই জয়ের ফলে গুজরাট টাইটানসও প্লে-অফের লড়াইয়ে টিকে গেল, তবে চেন্নাইয়ের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ল।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন চেন্নাই অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়। দলে একটি পরিবর্তন এনে গুরজানপ্রীত সিংয়ের জায়গায় আকেল হোসেনকে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, হায়দ্রাবাদ অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই মাঠে নামে। এর আগের দেখায় হায়দ্রাবাদ ১০ রানে জয় পেয়েছিল, তাই এই ম্যাচটি ছিল চেন্নাইয়ের জন্য প্রতিশোধের মঞ্চ।
চেন্নাইয়ের ব্যাটিং বিশ্লেষণ
ব্যাটিং শুরু করেন সঞ্জু স্যামসন এবং রুতুরাজ গায়কোয়াড়। সঞ্জু শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন এবং ১৩ বলে ২৭ রান করে প্যাট কামিন্সের বলে আউট হন। এরপর উরভিল প্যাটেল ১৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন। কার্তিক শর্মা ১৯ বলে ৩২ রান করে দলের রানের গতি সচল রাখেন। তবে অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড় আজ ছন্দহীন ছিলেন, তিনি কোনো বাউন্ডারি ছাড়াই ১৫ রান করে ফিরে যান। শেষদিকে ডেওয়াল্ড ব্রেভিস (২৭ বলে ৪৪ রান) এবং শিবম দুবে (২৬ রান) চেষ্টা করলেও চেন্নাই নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮০ রানের বেশি করতে পারেনি। দলটির হিসেবে অন্তত ১৫-২০ রান কম ছিল স্কোরবোর্ডে।
হায়দ্রাবাদের সফল রান তাড়া
১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অভিষেক শর্মা শুরু থেকেই মারমুখী ছিলেন। ট্রাভিস হেড দ্রুত ৬ রানে আউট হলেও, ইশান কিষাণ এবং অভিষেক জুটি বেঁধে চাপ সামাল দেন। এরপর ইশান কিষাণ এবং হেনরিখ ক্লাসেনের জুটিতে হায়দ্রাবাদ জয়ের পথে এগিয়ে যায়। ক্লাসেন ৪৭ রান করে সঞ্জু স্যামসনের দারুণ এক স্টাম্পিংয়ের শিকার হন। ইশান কিষাণ ৩৭ বলে তার অর্ধশতক পূর্ণ করেন এবং ৭০ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। তার এই ইনিংস চেন্নাইয়ের প্লে-অফের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
অধিনায়কের প্রতিক্রিয়া
ম্যাচ হারের পরেও রুতুরাজ গায়কোয়াড় তার দলের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি একটি ভালো ম্যাচ ছিল। পিচ খুব একটা পরিবর্তন হয়নি, এটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্য উপযুক্ত ছিল। আমরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেছি, তবে আমার ছেলেদের নিয়ে আমি গর্বিত।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে মিস করেছি। অনেকগুলো বিষয়ের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। আজকের ম্যাচে সবাই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। আমাদের সমর্থকরা সব সময় আমাদের পাশে থাকেন। গত বছরের তুলনায় এই বছর আমরা অনেক ভালো খেলেছি।’
ভবিষ্যৎ পথচলা
চেন্নাই সুপার কিংসের জন্য এই হার বেশ বড় ধাক্কা। যদিও গায়কোয়াড় ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে ভাবছেন, তবে প্লে-অফের সমীকরণ এখন তাদের হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এসে প্রতিটি ভুলই দলের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। তবে সামগ্রিক পারফরম্যান্সের বিচারে চেন্নাই চলতি মৌসুমে বেশ কয়েকবার তাদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে, যা ভক্তদের জন্য কিছুটা হলেও আশার জায়গা তৈরি করে রাখে।
এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী ম্যাচগুলোতে চেন্নাই তাদের ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়াতে পারে কি না। আইপিএলের মতো দীর্ঘ টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাটাই আসল চ্যালেঞ্জ, আর সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ আজ সেই পরীক্ষায় বাজিমাত করে দেখাল।
