আইপিএল ২০২৬: রিকি পন্টিংয়ের হতাশাজনক মুহূর্ত নিয়ে মুখ খুললেন অশ্বিন
পাঞ্জাব কিংসের পথচলা: সাফল্যের শিখর থেকে পতনের অতলে
আইপিএল ২০২৬-এর আসরে পাঞ্জাব কিংসের যাত্রা ছিল স্বপ্নের মতো। মৌসুমের শুরুটা তারা করেছিল দুর্দান্ত ছন্দে, যেখানে প্রথম ছয়টি ম্যাচ জিতে তারা পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকার লড়াইয়ে ছিল। কিন্তু কে জানত, সেই জয়ের ধারা হঠাৎ করেই এমন এক অন্ধকার সুড়ঙ্গে হারিয়ে যাবে! ধর্মশালায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) কাছে পরাজিত হওয়ার পর পাঞ্জাব কিংস এখন প্লে-অফের দৌড় থেকে প্রায় ছিটকে পড়ার অপেক্ষায়। টানা ছয়টি হারের পর দলটির বর্তমান অবস্থা রীতিমতো উদ্বেগজনক।
ভাইরাল সেই ছবি: পন্টিংয়ের নীরব আর্তনাদ
ধর্মশালার মাঠে আরসিবির কাছে হারের পর পাঞ্জাব কিংসের প্রধান কোচ রিকি পন্টিংকে ডাগআউটে একেবারে একা এবং হতাশ হয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। তার সেই বিষণ্ন চাহনি ক্রিকেট মহলে এক তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কিংবদন্তি এই অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারকে সাধারণত এতটা বিমর্ষ অবস্থায় সচরাচর দেখা যায় না। সেই ছবি দেখে ভক্তদের হৃদয় ভেঙে গেছে, যা মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পন্টিংয়ের সেই চেহারা বুঝিয়ে দেয়, দলের এই করুণ দশা তাকে কতটা মানসিকভাবে আঘাত করেছে।
রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বিশ্লেষণ ও উদ্বেগ
ভারতের অভিজ্ঞ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন তার ইউটিউব চ্যানেল ‘অ্যাশ কি বাত’-এ এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিজের মতামত তুলে ধরেন। অশ্বিন বলেন, ‘আমি টিভিতে সেই ছবিটি দেখেছিলাম। রিকি পন্টিং ডাগআউটে একা বসে ছিলেন। তার মনে নিশ্চয়ই অনেক কিছু চলছে। পাঞ্জাব কিংস এমন এক অবস্থানে ছিল যেখান থেকে তারা অনায়াসেই শীর্ষ দুইয়ে জায়গা করে নিতে পারত। এখন নিশ্চয়ই তারা নিজেদের প্রশ্ন করছে, কোথায় ভুল হয়েছে।’
হোম ভেন্যু পরিবর্তনের মাশুল?
অশ্বিন দলের এই ব্যর্থতার পেছনে একটি বিশেষ কারণকে দায়ী করেছেন। তিনি পাঞ্জাব কিংসের হোম ম্যাচগুলো মুল্লানপুর এবং ধর্মশালার মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। ২০১৮ সালে পাঞ্জাবের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনি মুল্লানপুরে টানা জিতছিলেন, তারপর ধর্মশালায় গেলেন এবং টানা তিনটি হোম ম্যাচ হেরে গেলেন। পিচ বা মাটি একই হতে পারে, কিন্তু উচ্চতা ও কন্ডিশনের পার্থক্য অনেক। এই সিদ্ধান্ত দলের পারফরম্যান্সে বড় প্রভাব ফেলেছে।’
অশ্বিনের মতে, পাঞ্জাব ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসার খাতিরে খেলোয়াড়দের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ নষ্ট করেছে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘তরুণ এবং বিদেশি ক্রিকেটাররা এই ভিন্ন কন্ডিশনে খাপ খাওয়াতে হিমশিম খাচ্ছে। ধর্মশালা যেন তাদের জন্য ঘরের মাঠ নয়, বরং অ্যাওয়ে ম্যাচের মতোই কঠিন মনে হয়েছে। যদি তারা ঘরের মাঠে অন্তত একটি ম্যাচও জিতত, তবে পরিস্থিতি আজ অন্যরকম হতে পারত।’
প্লে-অফের ক্ষীণ আশা
পাঞ্জাব কিংস এখন এমন এক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে কেবল একটি জয়ই তাদের রক্ষা করতে পারে না, সেই সঙ্গে অন্যান্য দলের ফলাফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে। অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার এবং কোচ রিকি পন্টিংয়ের জন্য এটি অত্যন্ত কঠিন সময়। অশ্বিন তার বক্তব্যে পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, এই ব্যর্থতার দায় কোনো একক ব্যক্তির নয়, বরং দলের সামগ্রিক পরিকল্পনা এবং ভেন্যু নির্বাচনের ভুল নীতিই এর জন্য দায়ী।
ক্রিকেট প্রেমীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—পাঞ্জাব কিংস কি শেষ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের সম্মান রক্ষা করতে পারবে? নাকি এই ব্যর্থতা তাদের আইপিএল ২০২৬ থেকে চিরতরে বিদায় নিশ্চিত করবে? অশ্বিনের মতো ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, দলের যে প্রতিভা আছে, তাতে এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। এখন দেখার বিষয়, শেষ ম্যাচে পাঞ্জাব কিংস তাদের সেরাটা দিয়ে অন্তত জয় দিয়ে মৌসুম শেষ করতে পারে কি না।
